ঝাড়গ্রাম নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক: জেলায় একমাত্র শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বানীপদ পাত্রের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন জেলাশাসক আয়েষা রানি এ। এদিন শিক্ষামন্ত্রীর ভার্চুয়ার অনুষ্ঠানে প্রত্যেক জেলার পাশাপাশি এ জেলায় সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের প্রধান শিক্ষক বছর আঠান্নর ওই শিক্ষক গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের ধানশোল আদিবাসী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক।
জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, করোনা পরিস্থিতিতে বানীপদবাবু গোপীবল্লভপুরের ওড়িশা সীমান্তবর্তী কেন্দুগাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে করোনা নিয়ে মানুষজনকে সচেতন করেছেন। এছাড়াও আদিবাসী অধ্যুষিত ওই এলাকার পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াশুনার খোঁজ খবর নিতেন। এমনকি পড়ুয়াদের বাড়ি গিয়ে পড়াতেন। ১৯৮২ সালে এই স্কুল থেকে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হন। স্কুলটিতে সাঁওতালি ও বাংলা মাধ্যমে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা হয়। এবছর ১১ সাঁওতালি মাধ্যমে তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ১৯৯৯ সালে স্কুলটি মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। ২০১১ সালে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। ২০১৩ সাল থেকে স্কুলে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। বর্তমানে স্কুলটিতে বাংলা ও সাঁওতালি দু’টি মাধ্যমে পঠন-পাঠন হয়। এবছর এই স্কুল থেকে সাঁওতালি মাধ্যমে ১৩ জন মাধ্যমিক দিয়েছিল। সবাই পাশ করেছে। এবছর সাঁওতালি মাধ্যমে ১৫ জন উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছিল। তারমধ্যে ১৪ জন পাশ করেছে। প্রধান শিক্ষক বানীপদ পাত্র বলেন, এই পুরস্কারের পর দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। দুবছর পর অবসর গ্রহণ করব। তারপরও আদিবাসী অধ্যুষিত ওই এলাকায় শিক্ষার প্রসার নিয়ে কাজ করব।